০২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

যশোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ

  • আপডেট: ১২:১৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

স্টার বাংলা নিউজ ডেস্ক: ঢাকায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই যশোরের আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় ইমরান হোসেন (৩৪) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের সামনে স্বজন ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন।

মৃত ইমরান যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গাজীপাড়ার শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে।
তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই একের পর এক ইনজেকশন দেওয়ায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে মৃত্যু হয়। তারা ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ এনে দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, রোগীকে নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ইমরানের পরিবারের ভাষ্য, তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ইমরানকে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। ওই সময় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুপান্ত ভৌমিক তাকে ভর্তি করে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠান। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সহকারী রেজিস্টার ডা. রাহাত ও মেডিকেল অফিসার ডা. মুন্নি রোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই একের পর এক ইনজেকশন প্রয়োগ করেন।

খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, প্রথম ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই ইমরান তীব্র অস্বস্তি বোধ করছিলেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের জানানো হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দেননি। এরপর পরবর্তী ইনজেকশন দেওয়ার সাথে সাথেই ইমরানের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তখন রোগীকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ভুল ইনজেকশন ও অবহেলায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দায়ী চিকিৎসকদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এই হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যু এবং সিজার, অপারেশন ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ ইতিপূর্বে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সুফল পাননি।
সর্বশেষ এই ঘটনার পর মৃতের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (সাধারণ ডায়েরি) করেছেন।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন। তিনি দাবি করেন, রোগীকে নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। রোগীকে গ্যাসের ইনজেকশন, এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে জীবন রক্ষাকারী শেষ ইনজেকশন ‘হাইসোমাইড’ রোগীর শরীরে পুশ করা হয়।
ডা. ইমদাদ দাবি করেন, এর বাইরে অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। রোগী জ্বরের হিস্ট্রি নিয়ে ভর্তি হলেও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই উল্লেখ করে তিনি প্রাথমিকভাবে হৃদরোগের কারণে মৃত্যুর কথা জানান।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববার অফিস খুললে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দরকার হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তথ্য বলছে, যশোর শহরের রেল রোডে আদ-দ্বীন হাসপাতালের গোড়াপত্তন হয়। এই হাসপাতালটিতে একসময় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় নিয়মিত রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠতো। বিক্ষুব্ধ লোকজন এখানে অনেকবার ভাঙচুরও করেছেন। আলো-বাতাসের সংকট থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত প্রসূতি ও শিশুদের জন্য

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যশোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ

যশোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ

আপডেট: ১২:১৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

স্টার বাংলা নিউজ ডেস্ক: ঢাকায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই যশোরের আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় ইমরান হোসেন (৩৪) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের সামনে স্বজন ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন।

মৃত ইমরান যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গাজীপাড়ার শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে।
তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই একের পর এক ইনজেকশন দেওয়ায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে মৃত্যু হয়। তারা ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ এনে দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, রোগীকে নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ইমরানের পরিবারের ভাষ্য, তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ইমরানকে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। ওই সময় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুপান্ত ভৌমিক তাকে ভর্তি করে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠান। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সহকারী রেজিস্টার ডা. রাহাত ও মেডিকেল অফিসার ডা. মুন্নি রোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই একের পর এক ইনজেকশন প্রয়োগ করেন।

খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, প্রথম ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই ইমরান তীব্র অস্বস্তি বোধ করছিলেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের জানানো হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দেননি। এরপর পরবর্তী ইনজেকশন দেওয়ার সাথে সাথেই ইমরানের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তখন রোগীকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ভুল ইনজেকশন ও অবহেলায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দায়ী চিকিৎসকদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এই হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যু এবং সিজার, অপারেশন ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ ইতিপূর্বে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সুফল পাননি।
সর্বশেষ এই ঘটনার পর মৃতের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (সাধারণ ডায়েরি) করেছেন।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন। তিনি দাবি করেন, রোগীকে নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। রোগীকে গ্যাসের ইনজেকশন, এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে জীবন রক্ষাকারী শেষ ইনজেকশন ‘হাইসোমাইড’ রোগীর শরীরে পুশ করা হয়।
ডা. ইমদাদ দাবি করেন, এর বাইরে অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। রোগী জ্বরের হিস্ট্রি নিয়ে ভর্তি হলেও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই উল্লেখ করে তিনি প্রাথমিকভাবে হৃদরোগের কারণে মৃত্যুর কথা জানান।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববার অফিস খুললে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দরকার হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তথ্য বলছে, যশোর শহরের রেল রোডে আদ-দ্বীন হাসপাতালের গোড়াপত্তন হয়। এই হাসপাতালটিতে একসময় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় নিয়মিত রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠতো। বিক্ষুব্ধ লোকজন এখানে অনেকবার ভাঙচুরও করেছেন। আলো-বাতাসের সংকট থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত প্রসূতি ও শিশুদের জন্য