০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

পদত্যাগ করবেন না মমতা, সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

  • আপডেট: ০৬:১৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে বিশাল ব্যবধানে হারার পর নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস ও নেত্রী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কেন পদত্যাগ করব? ‌আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? আমাদের কাছে নির্বাচিত অনেক সদস্য রয়েছেন। সকলে আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে। সব অফিসারদের বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তিনি বলেন, কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট, বিচারব্যবস্থা নেই, কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চায়, তখন গণতন্ত্র কোথায় যাবে? এমনি জিতলে কোনও অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।

মমতা বলেন, সাখাওয়াতে আমার এজেন্টদেরও ঢুকতে দেয়নি। ভিতরে ওরা আমার পেটে লাথি মেরেছে, পিছনে লাথি মেরেছে। সিসিটিভি বন্ধ ছিল। মহিলা হিসাবে আমি অপমানিত। আমার সঙ্গেই এটা হল, তা হলে অন্যদের কী ভাবে অত্যাচারিত হতে হচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে। দল কর্মীদের পাশে আছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ঘুরে দাঁড়াব।

তিনি বলেন, আমরা যখন জিতেছিলাম, বলেছিলাম, কারও উপর যেন অত্যাচার না হয়। সিপিএমের কোনও পার্টি অফিসে আমরা হাত দিইনি। অত্যাচার করিনি। মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনও দল করতে পারে? ভাবা যায়?

গণনার শুরুর পর সংবাদমাধ্যমে বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পেয়ে গিয়েছে দেখানোর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপির লোকজন গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। ১৩ হাজার ভোটে আমি লিড করছিলাম। ৩২ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ওরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকেছে। সব ভেঙে দিয়েছে। এটা শুনেই আমি গেলাম। জগুবাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকাল। বলল যেতে দেবে না। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। ভোট-পরবর্তী হিংসার খোঁজ নিতে তথ্য অনুসন্ধানী কমিটি গঠন করা হবে।

বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সকল নেতা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। অখিলেশ আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সকলেই আসবেন। জোট শক্তিশালী করব।

হারার পর দলের রণকৌশল কী হবে, কোন পথে এগোবেন, তা আপাতত গোপনেই রাখতে চান মমতা। জানিয়েছেন, এখনই এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কিছু বলবেন না।

মমতার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যশোরের আ,লীগের কার্যলয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

পদত্যাগ করবেন না মমতা, সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

আপডেট: ০৬:১৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে বিশাল ব্যবধানে হারার পর নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস ও নেত্রী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কেন পদত্যাগ করব? ‌আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? আমাদের কাছে নির্বাচিত অনেক সদস্য রয়েছেন। সকলে আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে। সব অফিসারদের বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তিনি বলেন, কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট, বিচারব্যবস্থা নেই, কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চায়, তখন গণতন্ত্র কোথায় যাবে? এমনি জিতলে কোনও অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।

মমতা বলেন, সাখাওয়াতে আমার এজেন্টদেরও ঢুকতে দেয়নি। ভিতরে ওরা আমার পেটে লাথি মেরেছে, পিছনে লাথি মেরেছে। সিসিটিভি বন্ধ ছিল। মহিলা হিসাবে আমি অপমানিত। আমার সঙ্গেই এটা হল, তা হলে অন্যদের কী ভাবে অত্যাচারিত হতে হচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে। দল কর্মীদের পাশে আছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ঘুরে দাঁড়াব।

তিনি বলেন, আমরা যখন জিতেছিলাম, বলেছিলাম, কারও উপর যেন অত্যাচার না হয়। সিপিএমের কোনও পার্টি অফিসে আমরা হাত দিইনি। অত্যাচার করিনি। মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনও দল করতে পারে? ভাবা যায়?

গণনার শুরুর পর সংবাদমাধ্যমে বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পেয়ে গিয়েছে দেখানোর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপির লোকজন গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। ১৩ হাজার ভোটে আমি লিড করছিলাম। ৩২ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ওরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকেছে। সব ভেঙে দিয়েছে। এটা শুনেই আমি গেলাম। জগুবাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকাল। বলল যেতে দেবে না। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। ভোট-পরবর্তী হিংসার খোঁজ নিতে তথ্য অনুসন্ধানী কমিটি গঠন করা হবে।

বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সকল নেতা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। অখিলেশ আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সকলেই আসবেন। জোট শক্তিশালী করব।

হারার পর দলের রণকৌশল কী হবে, কোন পথে এগোবেন, তা আপাতত গোপনেই রাখতে চান মমতা। জানিয়েছেন, এখনই এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কিছু বলবেন না।

মমতার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা।