১০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

এত গরমেও কীভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এত জোরে বল করেন নাহিদ

  • আপডেট: ১১:৫৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০

মুখে লাজুক হাসিটা লেগে থাকে সব সময়। কথায়ও থাকে সংকোচ। সাংবাদিকেরা যতই চেষ্টা করুন, নিজের বোলিং নিয়ে নাহিদ রানা উচ্চকিত হন না একদমই। অথচ দলের প্রসঙ্গ আসতেই সেই নাহিদ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এমন এক কথা বললেন, যা শুনে একরকম চমকেই গেলেন সবাই।

১-১ সমতায় থাকা সিরিজটা জিততে চায় নিউজিল্যান্ড, সংবাদ সম্মেলনে কথাটা বলে গিয়েছিলেন দলটির প্রতিনিধি হয়ে আসা নিক কেলি। মিনিট পাঁচেক পর সংবাদ সম্মেলনে এসে নাহিদ এ কথার জবাবটা দিয়েছেন এভাবে, ‘মুখে ক্রিকেট খেলা হয় না, মাঠেই যে ভালো করবে, সেই জিতবে।’

গতকাল নাহিদ বলেছেন, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করি দলের জন্য অবদান রাখার মতো পারফর্ম করতে। সেটা হতে পারে একটা স্পেল, হতে পারে একটা ওভার। দলকে জেতানোর জন্য একটা ওভারও যদি ভালো করতে পারি, ওই ওভার যদি দলে অবদান রাখে, আমি খুশি।’

দলের জন্য এই অবদানটুকু রাখতে কষ্টও তো কম করতে হয় না। তীব্র গরমে যেখানে নাভিশ্বাস উঠছে সবার, তখন তাঁর বোলিংয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল একই রকম গতি।অ্যাকশনে নাহিদ রানা।আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেশামসুল হক

অথচ এমন গরমে দৌড়ে এসে বোলিং করবেন, তাই নাকি কল্পনা করতে পারেন না নিউজিল্যান্ডের হয়ে আজ সর্বোচ্চ ৮৩ রান করা নিক কেলি। সেখানেই কোটার পুরো ১০ ওভার এত জোরে বোলিং করার রহস্য কী?

নাহিদ বললেন তা–ও, ‘আমি আমার ফিটনেস নিয়ে অনুশীলনের বাইরেও অনেক কাজ করি। ট্রেনারের সঙ্গে কাজ করি, তাদের সঙ্গে কথা বলি—কীভাবে ফিটনেসটা আরও বাড়ানো যায়। যেন মাঠের মধ্যে অনুভব করি, বোলিং করেও ক্লান্ত হচ্ছি না। অফ (সিজনের) সময় জিমে বলেন, রানিংয়ে বলেন, নিজেকে মেইনটেইন বলেন (তা করি)।’

আগের ম্যাচটাই নাহিদের ভালো যায়নি, ১০ ওভারে খরচ করেছিলেন ৬৫ রান। অথচ আজ তিনি ৫ উইকেট পেয়েছেন ৩২ রান দিয়ে। প্রথম ৫ ওভারে তো দিয়েছিলেন মাত্র ১০ রান!

রান নাকি উইকেট—কোনটায় মনোযোগ থাকে নাহিদের? তাঁর উত্তর, ‘পরিস্থিতির চাওয়া অনুযায়ী। ধরুন, আমার কাছে যদি মনে হয় দলে অবদান রাখা যাবে কিংবা এমন পরিস্থিতি যদি থাকে উইকেট নিতে হবে; আমি মনে করি, ওই পরিস্থিতি মেনে বোলিং করা উচিত।’ ভুল থেকে প্রতিনিয়ত শিখছেন নাহিদশামসুল হক

সঙ্গে নাহিদের থাকে উন্নতির তাড়নাও, ‘আমি সব সময় একটা জিনিসই চেষ্টা করি আগের ম্যাচে যে ভুলটা করেছি, পরের ম্যাচে একই ভুল করব না। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি চেষ্টা করব সামনের ম্যাচে ভুল যত কম করে দলকে সাহায্য করা যায়।’

গত কয়েক ম্যাচে নাহিদের উন্নতির একটা কারণ ছিল ব্যাটসম্যানদের চমকে দিতে পারা। আগের বলটা ফুল লেন্থে করলেই পরেরটা তিনি প্রায় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের গতিতে বাউন্সার মেরেছেন। নাহিদ বলছেন তা–ও নাকি করেন পরিস্থিতির দাবি মেনেই, ‘এ রকম না যে একটা জায়গাতে বোলিং করেছি, যখন যেটা দরকার, সেই অনুযায়ী বোলিং করেছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যশোরের আ,লীগের কার্যলয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

এত গরমেও কীভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এত জোরে বল করেন নাহিদ

আপডেট: ১১:৫৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মুখে লাজুক হাসিটা লেগে থাকে সব সময়। কথায়ও থাকে সংকোচ। সাংবাদিকেরা যতই চেষ্টা করুন, নিজের বোলিং নিয়ে নাহিদ রানা উচ্চকিত হন না একদমই। অথচ দলের প্রসঙ্গ আসতেই সেই নাহিদ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এমন এক কথা বললেন, যা শুনে একরকম চমকেই গেলেন সবাই।

১-১ সমতায় থাকা সিরিজটা জিততে চায় নিউজিল্যান্ড, সংবাদ সম্মেলনে কথাটা বলে গিয়েছিলেন দলটির প্রতিনিধি হয়ে আসা নিক কেলি। মিনিট পাঁচেক পর সংবাদ সম্মেলনে এসে নাহিদ এ কথার জবাবটা দিয়েছেন এভাবে, ‘মুখে ক্রিকেট খেলা হয় না, মাঠেই যে ভালো করবে, সেই জিতবে।’

গতকাল নাহিদ বলেছেন, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করি দলের জন্য অবদান রাখার মতো পারফর্ম করতে। সেটা হতে পারে একটা স্পেল, হতে পারে একটা ওভার। দলকে জেতানোর জন্য একটা ওভারও যদি ভালো করতে পারি, ওই ওভার যদি দলে অবদান রাখে, আমি খুশি।’

দলের জন্য এই অবদানটুকু রাখতে কষ্টও তো কম করতে হয় না। তীব্র গরমে যেখানে নাভিশ্বাস উঠছে সবার, তখন তাঁর বোলিংয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল একই রকম গতি।অ্যাকশনে নাহিদ রানা।আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেশামসুল হক

অথচ এমন গরমে দৌড়ে এসে বোলিং করবেন, তাই নাকি কল্পনা করতে পারেন না নিউজিল্যান্ডের হয়ে আজ সর্বোচ্চ ৮৩ রান করা নিক কেলি। সেখানেই কোটার পুরো ১০ ওভার এত জোরে বোলিং করার রহস্য কী?

নাহিদ বললেন তা–ও, ‘আমি আমার ফিটনেস নিয়ে অনুশীলনের বাইরেও অনেক কাজ করি। ট্রেনারের সঙ্গে কাজ করি, তাদের সঙ্গে কথা বলি—কীভাবে ফিটনেসটা আরও বাড়ানো যায়। যেন মাঠের মধ্যে অনুভব করি, বোলিং করেও ক্লান্ত হচ্ছি না। অফ (সিজনের) সময় জিমে বলেন, রানিংয়ে বলেন, নিজেকে মেইনটেইন বলেন (তা করি)।’

আগের ম্যাচটাই নাহিদের ভালো যায়নি, ১০ ওভারে খরচ করেছিলেন ৬৫ রান। অথচ আজ তিনি ৫ উইকেট পেয়েছেন ৩২ রান দিয়ে। প্রথম ৫ ওভারে তো দিয়েছিলেন মাত্র ১০ রান!

রান নাকি উইকেট—কোনটায় মনোযোগ থাকে নাহিদের? তাঁর উত্তর, ‘পরিস্থিতির চাওয়া অনুযায়ী। ধরুন, আমার কাছে যদি মনে হয় দলে অবদান রাখা যাবে কিংবা এমন পরিস্থিতি যদি থাকে উইকেট নিতে হবে; আমি মনে করি, ওই পরিস্থিতি মেনে বোলিং করা উচিত।’ ভুল থেকে প্রতিনিয়ত শিখছেন নাহিদশামসুল হক

সঙ্গে নাহিদের থাকে উন্নতির তাড়নাও, ‘আমি সব সময় একটা জিনিসই চেষ্টা করি আগের ম্যাচে যে ভুলটা করেছি, পরের ম্যাচে একই ভুল করব না। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি চেষ্টা করব সামনের ম্যাচে ভুল যত কম করে দলকে সাহায্য করা যায়।’

গত কয়েক ম্যাচে নাহিদের উন্নতির একটা কারণ ছিল ব্যাটসম্যানদের চমকে দিতে পারা। আগের বলটা ফুল লেন্থে করলেই পরেরটা তিনি প্রায় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের গতিতে বাউন্সার মেরেছেন। নাহিদ বলছেন তা–ও নাকি করেন পরিস্থিতির দাবি মেনেই, ‘এ রকম না যে একটা জায়গাতে বোলিং করেছি, যখন যেটা দরকার, সেই অনুযায়ী বোলিং করেছি।