০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে মাছ আমদানিতে শুল্কফাঁকির অভিযোগ, আলোচনায় এমি এন্টারপ্রাইজের রুবাই

  • আপডেট: ০৭:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৩৩

সাজিদ (যশোর): বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, আর দুর্নীতিবাজ চক্র অবৈধভাবে লাভবান হচ্ছে।
শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কম হয়েছে বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আলোচিত প্রতিষ্ঠান এমি এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী রুবাইসহ কয়েকটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আমদানিকারকদের কাছ থেকে যথাযথ শুল্কের অর্থ গ্রহণ করলেও সরকারের কোষাগারে তা জমা না দিয়ে নানা কৌশলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে।
সবশেষ গত ৭ মে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ৭৩০ কেজি ভারতীয় রুই মাছ আটক করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ চালানের আমদানিকারক ছিল সাত তারা মৎস্য।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা এবং পচনশীল পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আটক মাছগুলো পরে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।
বেনাপোল কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়মের ঘটনায় যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়, তাদের মধ্যে এমি এন্টারপ্রাইজ, আলেয়া এন্টারপ্রাইজ, রয়েল এন্টারপ্রাইজ এবং লিংক ইন্টারন্যাশনাল-এর নাম বারবার উঠে আসে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাস্টমসের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, “শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে আটক মাছ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত এমি এন্টারপ্রাইজকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও কঠোর নজরদারি করা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বেনাপোল বন্দরে মাছ আমদানিতে শুল্কফাঁকির অভিযোগ, আলোচনায় এমি এন্টারপ্রাইজের রুবাই

আপডেট: ০৭:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

সাজিদ (যশোর): বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, আর দুর্নীতিবাজ চক্র অবৈধভাবে লাভবান হচ্ছে।
শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কম হয়েছে বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আলোচিত প্রতিষ্ঠান এমি এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী রুবাইসহ কয়েকটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আমদানিকারকদের কাছ থেকে যথাযথ শুল্কের অর্থ গ্রহণ করলেও সরকারের কোষাগারে তা জমা না দিয়ে নানা কৌশলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে।
সবশেষ গত ৭ মে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ৭৩০ কেজি ভারতীয় রুই মাছ আটক করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ চালানের আমদানিকারক ছিল সাত তারা মৎস্য।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা এবং পচনশীল পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আটক মাছগুলো পরে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।
বেনাপোল কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়মের ঘটনায় যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়, তাদের মধ্যে এমি এন্টারপ্রাইজ, আলেয়া এন্টারপ্রাইজ, রয়েল এন্টারপ্রাইজ এবং লিংক ইন্টারন্যাশনাল-এর নাম বারবার উঠে আসে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাস্টমসের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, “শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে আটক মাছ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত এমি এন্টারপ্রাইজকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও কঠোর নজরদারি করা হবে।”