নিউজ,ডেস্ক, স্টার বাংলা টুডেঃ আগামী বাজেটে এমন প্রস্তাব আসতে পারে বলে জানা গেছে। এ খবরে মোটরসাইকেলচালকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত রোববার সকালে কয়েক শ মোটরসাইকেলচালক এর প্রতিবাদ জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন।
শুধু মোটরসাইকেল মালিকই নন, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী, বাড়ি ও গাড়ির মালিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা কারণে অগ্রিম কর দিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে এই করকে অযৌক্তিক বলেও মনে করেন করদাতারা। তবুও কর দিতে হয়, যা অনেকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
এনবিআর সূত্র জানায়, আয়কর বিভাগ প্রতিবছর যে পরিমাণ আয়কর আদায় করে, তার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসে উৎসে কর বা অগ্রিম কর থেকে।
সরকার কেন অগ্রিম আয়কর নেয়
১. করদাতার সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান বিবেচনায়
কোনো ব্যক্তির আয়, বাড়ি, গাড়ি বা সম্পদের পরিমাণ দেখে ধারণা করা হয় তাঁর করযোগ্য আয় রয়েছে। তাই তাঁদের কাছ থেকে অগ্রিম কর নেওয়া হয়। বছর শেষে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এই কর সমন্বয়ের সুযোগ থাকে। তবে মোটরসাইকেল মালিকদের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, অনেক বাইকারের করযোগ্য আয় নেই। অথচ মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের ক্ষমতা (সিসি) অনুযায়ী ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম কর আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে।
২. রাজস্ব আদায় সহজ করতে
উৎসে কর বা অগ্রিম কর আদায় এনবিআরের জন্য সহজ ও কার্যকর একটি পদ্ধতি। বছরের শেষে করের জন্য অপেক্ষা না করে সারা বছর ধাপে ধাপে রাজস্ব সংগ্রহ করা যায়।
৩. কর ফাঁকি কমাতে
আমদানি, গাড়ি নিবন্ধন, জমি বিক্রি বা ব্যাংক লেনদেনের সময় আগেই কর কেটে নেওয়ায় আয়ের তথ্য গোপন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৪. কর পরিশোধে অভ্যস্ত করতে
একসঙ্গে বড় অঙ্কের কর দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে কর পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়। যেমন অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন দেওয়ার সময় অগ্রিম কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।
৫. অপ্রদর্শিত আয় শনাক্ত করতে
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন মিলিয়ে অসংগতি শনাক্ত করতে অগ্রিম কর কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৬. ব্যবসায়িক লেনদেন নজরদারিতে রাখতে
আমদানি, রপ্তানি, পরিবহন, ঠিকাদারি বা কমিশনভিত্তিক আয়ের ওপর অগ্রিম কর আরোপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সরকারের কাছে পৌঁছে যায়।
৭. করব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে
উৎসে কর কাটা বা অগ্রিম কর নেওয়ার ফলে পরে আলাদা করে কর আদায়ের চাপ কমে যায়। এতে কর ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।
৮. সরকারের নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়াতে
উন্নয়ন ব্যয়, বেতন-ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালনায় সরকার দ্রুত অর্থ পায়। কারণ অগ্রিম কর সারা বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়।
৯. করের আওতা সম্প্রসারণে
অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রিটার্ন না দিলেও বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সময় অগ্রিম কর দেওয়ার মাধ্যমে কর নেটের আওতায় চলে আসে।
১০. অর্থনৈতিক তথ্যভান্ডার গঠনে
ব্যাংক লেনদেন, সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় ও আমদানির তথ্যের মাধ্যমে কর কর্তৃপক্ষ দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করতে পারে।











