০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নিজের আসনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারলেন মমতা

  • আপডেট: ১০:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক স্টার বাংলা টুডে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথের দ্বিতীয় পর্বেও জয় পেলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুর আসনেও পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী, তাও আগের চেয়ে বড় ব্যবধানে।

২০২১ সালে নন্দীগ্রাম আসনে মমতাকে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার মমতার ঘরের মাঠ ভবানীপুরে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। ফলে দুই দফার এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রাধান্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রথম কয়েক দফায় কখনো মমতা, কখনো শুভেন্দু এগিয়ে থাকলেও পরে ধীরে ধীরে ব্যবধান কমাতে থাকেন শুভেন্দু। ষোড়শ রাউন্ডে গিয়ে তিনি মমতাকে পেছনে ফেলেন এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন।

গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া একতরফা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা নৈতিক জয় নয়, বেআইনি জয়। জোর করে জিতেছে।’ একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তিনি।

অন্যদিকে জয়লাভের পর শুভেন্দু অধিকারী এই বিজয়কে ‘হিন্দুত্বের জন্য আত্মত্যাগকারীদের প্রতি উৎসর্গ’ করেন এবং বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো জরুরি ছিল।’

এই আসন ঘিরে গত দেড় মাস ধরে রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মনোনয়ন জমার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন। ভবানীপুরের জন্য আলাদা নির্বাচনী ইশতেহারও ঘোষণা করেন তিনি।

প্রচারণায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ দিকে জোরালোভাবে মাঠে নামেন। পদযাত্রা, জনসভা ও ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে শুভেন্দুও একাধিক সভা, মিছিল ও রোডশো করে ব্যাপক প্রচারণা চালান।

সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর টানা দুই গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরাজয়ের মুখে পড়ে রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যশোরের আ,লীগের কার্যলয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজের আসনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারলেন মমতা

আপডেট: ১০:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক স্টার বাংলা টুডে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথের দ্বিতীয় পর্বেও জয় পেলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুর আসনেও পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী, তাও আগের চেয়ে বড় ব্যবধানে।

২০২১ সালে নন্দীগ্রাম আসনে মমতাকে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার মমতার ঘরের মাঠ ভবানীপুরে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। ফলে দুই দফার এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রাধান্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রথম কয়েক দফায় কখনো মমতা, কখনো শুভেন্দু এগিয়ে থাকলেও পরে ধীরে ধীরে ব্যবধান কমাতে থাকেন শুভেন্দু। ষোড়শ রাউন্ডে গিয়ে তিনি মমতাকে পেছনে ফেলেন এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন।

গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া একতরফা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা নৈতিক জয় নয়, বেআইনি জয়। জোর করে জিতেছে।’ একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তিনি।

অন্যদিকে জয়লাভের পর শুভেন্দু অধিকারী এই বিজয়কে ‘হিন্দুত্বের জন্য আত্মত্যাগকারীদের প্রতি উৎসর্গ’ করেন এবং বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো জরুরি ছিল।’

এই আসন ঘিরে গত দেড় মাস ধরে রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মনোনয়ন জমার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন। ভবানীপুরের জন্য আলাদা নির্বাচনী ইশতেহারও ঘোষণা করেন তিনি।

প্রচারণায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ দিকে জোরালোভাবে মাঠে নামেন। পদযাত্রা, জনসভা ও ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে শুভেন্দুও একাধিক সভা, মিছিল ও রোডশো করে ব্যাপক প্রচারণা চালান।

সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর টানা দুই গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরাজয়ের মুখে পড়ে রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।