০২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে ক্রেন-ফর্কলিফট সংকট। পণ্য খালাস ব্যহত

  • আপডেট: ০৮:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ১৪

নিউজ ডেস্ক স্টার বাংলা টুডে: বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারি পণ্য ওঠা-নামানোর কাজে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত ক্রেন ও ফর্কলিফট না থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারি পণ্য, যা খালাসে ক্রেন ও ফর্কলিফট অপরিহার্য। ব্যবসায়ীদের মতে, এসব পণ্য দ্রুত খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন ও ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। তবে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময়ই এসব যন্ত্র অচল থাকে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্পখাত, থমকে যাচ্ছে উন্নয়ন কার্যক্রম।

বেনাপোল আমদানি,রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ—এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। ফলে অনেক আমদানিকারক ক্ষতি এড়াতে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন, যা বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, ঠিকাদার পরিবর্তনের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লাহ বলেন, ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। একাধিক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক যন্ত্রপাতি দিয়ে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়, ফলে আমদানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন,তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সংকট নিরসন করা হবে।

উল্লেখ্য, বেনাপোল বন্দরে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়, যা থেকে সরকারের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসে।।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যশোরের আ,লীগের কার্যলয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বেনাপোল বন্দরে ক্রেন-ফর্কলিফট সংকট। পণ্য খালাস ব্যহত

আপডেট: ০৮:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক স্টার বাংলা টুডে: বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারি পণ্য ওঠা-নামানোর কাজে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত ক্রেন ও ফর্কলিফট না থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারি পণ্য, যা খালাসে ক্রেন ও ফর্কলিফট অপরিহার্য। ব্যবসায়ীদের মতে, এসব পণ্য দ্রুত খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন ও ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। তবে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময়ই এসব যন্ত্র অচল থাকে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্পখাত, থমকে যাচ্ছে উন্নয়ন কার্যক্রম।

বেনাপোল আমদানি,রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ—এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। ফলে অনেক আমদানিকারক ক্ষতি এড়াতে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন, যা বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, ঠিকাদার পরিবর্তনের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লাহ বলেন, ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। একাধিক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক যন্ত্রপাতি দিয়ে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়, ফলে আমদানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন,তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সংকট নিরসন করা হবে।

উল্লেখ্য, বেনাপোল বন্দরে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়, যা থেকে সরকারের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসে।।