নিউজ ডেস্ক, স্টার বাংলা টুডে: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত এপ্রিল মাস থেকে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করেছে। এই যোগদান প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত ও যাচাই–বাছাইয়ের আওতায় আনতে দলটি একটি ‘ন্যাশনাল সার্চ কমিটি’ গঠন করেছে।
রোববার দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছয় সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বের যোগদানের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনায় কমিটিটি গঠন করা হয়েছে।
দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটিতে রাখা হয়েছে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই দল সম্প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করে এনসিপি। গত ১৯ এপ্রিল এবি পার্টি, আপ বাংলাদেশ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৪ জন নেতা-কর্মীর এনসিপিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
এরপর ২৪ এপ্রিল বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ আরও কয়েকজন এনসিপিতে যোগ দেন।
পরে ৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন এবং অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ।
সবশেষে গত শুক্রবার গণ অধিকার পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স, আপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ৩৬ জন ব্যক্তি এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখায় যোগ দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং বহুমাত্রিক সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এনসিপি এই সম্প্রসারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন গঠিত ‘ন্যাশনাল সার্চ কমিটি’ সেই প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




















