সময়টা ১৯৭০, শিশির অধিকারী ও গায়ত্রী অধিকারীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এক শিশু। বাবা শিশির অধিকারী ছিলেন একজন সংসদ সদস্য। বাবার অনুপ্রেরণায় অল্প বয়সেই রাজনীতির পথে পা বাড়ান তিনি। তিনি আর কেউ নন, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
পশ্চিমবঙ্গের এই নেতা দেখিয়েছেন, ব্যক্তির জনপ্রিয়তা একটি দলকে বিজয়ের চূড়ায় পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে বারবার পিছিয়ে পড়ছিল ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অবশেষে শুভেন্দুর হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে বড় সাফল্য পায় দলটি এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে কাঁথি পৌরসভা থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। জীবনের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেও লক্ষ্য থেকে সরে যাননি তিনি।
৩০ বছর বয়সে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। প্রায় ২০ বছর ধরে এই দলের হয়ে রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২০০৬ সালে কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য হন এবং একই বছরে কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন তিনি। এই আন্দোলনের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন।
নন্দীগ্রামে তাঁর ভূমিকার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পশ্চিম মেদিনিপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার দায়িত্ব দেন।
২০০৯ সালে তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রায় সাত বছর এই দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেন। একই বছরে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
তবে ২০২০ সালে এই সম্পর্কের অবসান ঘটে। ১৬ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি এবং পরের দিন তৃণমূল কংগ্রেস থেকেও পদত্যাগ করেন। ১৮ ডিসেম্বর অমিত শাহের উপস্থিতিতে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম নির্বাচনেই তিনি নিজের শক্তি প্রমাণ করেন। নন্দীগ্রাম আসনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন তিনি। দীর্ঘদিন যে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেই দলকেই এবার রাজনৈতিক কৌশল ও জনপ্রিয়তায় পরাজিত করেন।
টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।





















