০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ইরানি ট্যাংকারে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণের হুমকি বিপ্লবী গার্ডের

  • আপডেট: ১১:৫৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ১১

নিউজ ডেস্ক, স্টার বাংলা টুডে: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে।

ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে শনিবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর এক দিন আগে ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও শত্রুপক্ষের জাহাজে কঠোর হামলা চালানো হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, ওয়াশিংটনের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে খুব দ্রুতই ইরানের জবাব পাওয়া যেতে পারে। তবে পাকিস্তানি মধ্যস্থতায় তেহরান কোনো বার্তা পাঠিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কিছু জানা যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক তৎপরতা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন কূটনৈতিক সমাধানের পথে সন্দেহ তৈরি করেছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো বিকল করে দেয়। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজ দুটি ইরানের বন্দর অবরোধ অমান্য করেছিল। জবাবে ইরানি নৌবাহিনীও পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায় তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে চলে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব ইরানকে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে আলোচনার পথ তৈরির চেষ্টা চলছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র Kharg Island–এর উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, প্রায় ৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেলের আস্তরণ দেখা গেছে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।

খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত Strait of Hormuz–এ চলাচল সীমিত করে দিলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে।

এদিকে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা বাড়ছে। প্রতিদিনই ইসরায়েল ও ইরানসমর্থিত Hezbollah–এর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, বিস্ফোরকবোঝাই কয়েকটি ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং এতে কয়েকজন সেনা আহত হন।

এই উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা চললেও সম্ভাব্য এ আলোচনা নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যশোরের আ,লীগের কার্যলয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ইরানি ট্যাংকারে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণের হুমকি বিপ্লবী গার্ডের

আপডেট: ১১:৫৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক, স্টার বাংলা টুডে: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে।

ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে শনিবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর এক দিন আগে ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও শত্রুপক্ষের জাহাজে কঠোর হামলা চালানো হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, ওয়াশিংটনের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে খুব দ্রুতই ইরানের জবাব পাওয়া যেতে পারে। তবে পাকিস্তানি মধ্যস্থতায় তেহরান কোনো বার্তা পাঠিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কিছু জানা যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক তৎপরতা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন কূটনৈতিক সমাধানের পথে সন্দেহ তৈরি করেছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো বিকল করে দেয়। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজ দুটি ইরানের বন্দর অবরোধ অমান্য করেছিল। জবাবে ইরানি নৌবাহিনীও পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায় তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে চলে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব ইরানকে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে আলোচনার পথ তৈরির চেষ্টা চলছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র Kharg Island–এর উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, প্রায় ৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেলের আস্তরণ দেখা গেছে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।

খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত Strait of Hormuz–এ চলাচল সীমিত করে দিলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে।

এদিকে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা বাড়ছে। প্রতিদিনই ইসরায়েল ও ইরানসমর্থিত Hezbollah–এর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, বিস্ফোরকবোঝাই কয়েকটি ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং এতে কয়েকজন সেনা আহত হন।

এই উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা চললেও সম্ভাব্য এ আলোচনা নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।