০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

তিন বছরের ব্যবধানে আট গুণ বেশি টাকায় খাল খনন করছে পাউবো আবার

  • আপডেট: ১০:৪৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ২৪

তিন বছর আগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) খনন করা নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মির্জা মামুদ খাল আবারও খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কাজটির উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার (দুলু)। তাঁর দাবি, আগে শুধু কাগজে–কলমে খাল কাটা হয়েছিল। এবার বাস্তবে কাটা হচ্ছে। তদারকিও করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মির্জা মামুদ খালটি ২ কোটি ৬১ লাখ টাকায় খনন করছে পাউবো। এর আগে একই খাল বিএডিসি ২০২২-২৩ সালে খনন করেছিল ৩৪ লাখ টাকায়। তিন বছরের ব্যবধানে একই খাল পুনরায় খনন করা হচ্ছে প্রায় আট গুণ বেশি টাকায়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদন নেওয়া প্রকল্পটিকে বিতর্কিত বলছে বিএডিসি।

নাটোর পাউবোর দেওয়া তথ্য বলছে, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে মির্জা মামুদ খাল। খালটির নন্দকুঁজা নদী অংশ থেকে শুরু করে মরা বড়াল নদ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার খননের প্রকল্প নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। কাজটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। খালের বর্তমান তলদেশ থেকে ৪ ফুট গভীর ও তলার প্রস্থ ৬ ফুট খনন করার কথা রয়েছে। কাজটি পেয়েছে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনাইটেড ব্রাদার্স।

তবে বিএডিসির দেওয়া তথ্য বলছে, দুই কার্যাদেশে একই খালের চার কিলোমিটার খনন করা হয় ২০২২ সালে। প্রথম কার্যাদেশে ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় কার্যাদেশে ২ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়। খননে খালের গভীরতা ছিল ১০ থেকে ১১ ফুট।

মির্জা মামুদ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার (দুলু)।

বড়াইগ্রাম বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেন, ২০২২ সালে মির্জা মামুদ খালটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার খনন করে ৪২ হাজার ৩৯০ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হয়। এতে খালের নাব্যতা ফিরে আসে। সেই থেকে খালপারের কৃষকেরা খালের পানি চাষাবাদসহ প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করছেন। এই খাল বর্তমানে খননযোগ্য নয়। অথচ অযাচিতভাবে বিএডিসির এই খাল নিয়মবহির্ভূতভাবে বেশি ব্যয়ে খনন শুরু করছে পাউবো। সরকারের খাল খননের মতো এই মহতি উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে মির্জা মামুদ খাল বাদ দিয়ে নাব্যতা হারানো অন্য খাল খনন করার পরামর্শ দেন জিয়াউল। অন্যাথায় সরকারি টাকার অপচয় হবে।

খালের খননকাজের উদ্বোধনের সময় একই খাল পুনরায় খনন প্রশ্নে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের আমলে কোনো খাল খনন হয়নি, হয়েছে শুধু অনিয়ম-দুর্নীতি। খাল খনন হয়েছে কাগজে–কলমে, বাস্তবে হয়নি। এই খালের খননকাজ আমরা মনিটর করব। কোনো রকম অনিয়ম করতে দেব না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যশোরের আ,লীগের কার্যলয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

তিন বছরের ব্যবধানে আট গুণ বেশি টাকায় খাল খনন করছে পাউবো আবার

আপডেট: ১০:৪৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

তিন বছর আগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) খনন করা নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মির্জা মামুদ খাল আবারও খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কাজটির উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার (দুলু)। তাঁর দাবি, আগে শুধু কাগজে–কলমে খাল কাটা হয়েছিল। এবার বাস্তবে কাটা হচ্ছে। তদারকিও করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মির্জা মামুদ খালটি ২ কোটি ৬১ লাখ টাকায় খনন করছে পাউবো। এর আগে একই খাল বিএডিসি ২০২২-২৩ সালে খনন করেছিল ৩৪ লাখ টাকায়। তিন বছরের ব্যবধানে একই খাল পুনরায় খনন করা হচ্ছে প্রায় আট গুণ বেশি টাকায়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদন নেওয়া প্রকল্পটিকে বিতর্কিত বলছে বিএডিসি।

নাটোর পাউবোর দেওয়া তথ্য বলছে, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে মির্জা মামুদ খাল। খালটির নন্দকুঁজা নদী অংশ থেকে শুরু করে মরা বড়াল নদ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার খননের প্রকল্প নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। কাজটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। খালের বর্তমান তলদেশ থেকে ৪ ফুট গভীর ও তলার প্রস্থ ৬ ফুট খনন করার কথা রয়েছে। কাজটি পেয়েছে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনাইটেড ব্রাদার্স।

তবে বিএডিসির দেওয়া তথ্য বলছে, দুই কার্যাদেশে একই খালের চার কিলোমিটার খনন করা হয় ২০২২ সালে। প্রথম কার্যাদেশে ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় কার্যাদেশে ২ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়। খননে খালের গভীরতা ছিল ১০ থেকে ১১ ফুট।

মির্জা মামুদ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার (দুলু)।

বড়াইগ্রাম বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেন, ২০২২ সালে মির্জা মামুদ খালটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার খনন করে ৪২ হাজার ৩৯০ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হয়। এতে খালের নাব্যতা ফিরে আসে। সেই থেকে খালপারের কৃষকেরা খালের পানি চাষাবাদসহ প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করছেন। এই খাল বর্তমানে খননযোগ্য নয়। অথচ অযাচিতভাবে বিএডিসির এই খাল নিয়মবহির্ভূতভাবে বেশি ব্যয়ে খনন শুরু করছে পাউবো। সরকারের খাল খননের মতো এই মহতি উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে মির্জা মামুদ খাল বাদ দিয়ে নাব্যতা হারানো অন্য খাল খনন করার পরামর্শ দেন জিয়াউল। অন্যাথায় সরকারি টাকার অপচয় হবে।

খালের খননকাজের উদ্বোধনের সময় একই খাল পুনরায় খনন প্রশ্নে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের আমলে কোনো খাল খনন হয়নি, হয়েছে শুধু অনিয়ম-দুর্নীতি। খাল খনন হয়েছে কাগজে–কলমে, বাস্তবে হয়নি। এই খালের খননকাজ আমরা মনিটর করব। কোনো রকম অনিয়ম করতে দেব না।’