অপ্রকাশ্যে থাকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ধোঁয়াশা বেশ কিছুদিন ধরে। তাঁর বেঁচে থাকা নিয়েই অনেকে সন্দিহান। এর মধ্যেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আহত মোজতবা খামেনি এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
আজ শনিবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর দেওয়া হয়। এদিনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছান ইরানের স্পিকার বাগের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রাণ হারালে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ছেলে মোজতবা খামেনি। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিও সেই হামলায় আহন হন। এ খবর জানা গেলেও তার পরের অবস্থা গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রহস্যাবৃত।
এখন খামেনির ঘনিষ্ঠ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, হামলায় আহত মোজতবা খামেনির মুখ ও পায়ের জখম এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। তবে তিনি সেরে উঠছেন এবং মানসিকভাবেও বেশ সচল রয়েছেন।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী বৈঠকগুলোতে অংশ নিচ্ছেন মোজতবা খামেনি। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনাসহ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে তিনি ভূমিকা রাখছেন।
প্রায় ছয় সপ্তাহ যুদ্ধের পর আজ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হচ্ছে।
মোজতবার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, এক থেকে দুই মাসের মধ্যে তাঁর ছবি প্রকাশ পেতে পারে। এমনকি তিনি প্রকাশ্যেও আসতে পারেন। তবে তিনটি সূত্রই জোর দিয়ে বলেছে, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে তবেই তিনি জনসমক্ষে আসবেন।
কয়েক দশকের মধ্যে ইরান এখনই সবচেয়ে সংকটময় সময়ে রয়েছে বলে মনে করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নও ওঠে।
খামেনির আঘাতের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। তবে তাঁকে সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সংবাদ উপস্থাপক তাঁকে ‘জানবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ফার্সিতে এই শব্দ যুদ্ধে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
ইরানের সূত্রগুলোর বর্ণনা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ১৩ মার্চের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। হেগসেথ সেদিন বলেছিলেন, মোজতবা ‘আহত এবং সম্ভবত তাঁর চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে সিআইএ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও বিষয়টি নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্স ভাতাংকা বলেন, আঘাতের তীব্রতা যা–ই হোক না কেন, এই অনভিজ্ঞ নেতার পক্ষে তাঁর বাবার মতো সর্বময় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে না। ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও সেই মাত্রার স্বতঃস্ফূর্ত কর্তৃত্ব অর্জনে বছরের পর বছর লেগে যাবে।






















