১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ক্ষমতার পালাবদলে ব্যবসা হারানোর গল্প

  • আপডেট: ১১:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক, স্টার বাংলা টুডেঃ ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা–কর্মীদের অসন্তোষের মুখে পড়লে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কতটা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন, তার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন সাহাবুদ্দিন আলী। একসময় পুরান ঢাকায় পুরোনো লোহালক্কড়ের ব্যবসা করতেন তিনি। পরে বাড়তি লাভের আশায় সেই ব্যবসা ছেড়ে মানুষের বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত হন। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথায় সেই কাজও হারাতে হয় তাঁকে।

সাহাবুদ্দিন আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সিটি করপোরেশনে প্রভাব খাটাতেন। নিজেদের গণ–অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচয় দিলেও তাঁদের বিরুদ্ধে তদবির–বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। এমন এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন–এর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ পান। ওই ওয়ার্ডের আওতায় কাপ্তানবাজার, নবাবপুরের একাংশসহ আশপাশের এলাকা রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী, কাজটি পেতে তাঁকে ১২ লাখ টাকা জামানত দিতে হয়েছিল, যা অফেরতযোগ্য। সাধারণত দরপত্র ছাড়া এমন কাজ পাওয়া কঠিন হলেও তখন রাজনৈতিক আশীর্বাদ থাকায় তিনি সহজেই অনুমতি পান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক বছরের জন্য কাজের অনুমতি পেলেও মাত্র দুই মাস কাজ চালাতে পেরেছিলেন।

চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেওয়া বক্তব্যে সাহাবুদ্দিন আলী অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা তাঁকে ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দিয়ে কাজটি কেড়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন,
“আমাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে। জোরজবরদস্তি করে বিএনপির লোকজন কাজটি নিয়ে গেছে। ছয় বছর লোহালক্কড়ের ব্যবসা করে ১২ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। এখন লাভ তো দূরের কথা, পুরো টাকাই চলে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের কাছেও বিচার দিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।”

পুরোনো ব্যবসা ছেড়ে নতুন কাজে কেন এসেছিলেন—এমন প্রশ্নে তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, “এই কাজে লস নাই, লাভ আছে।”

বর্জ্য সংগ্রহের কাজ শুরুর সময় তিনি ২৪ জন কর্মী নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং কয়েকটি ভ্যানও কিনেছিলেন। ভবিষ্যতে কর্মী ও ভ্যানের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। কিন্তু কাজ হারানোর পর আর নতুন কোনো ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেননি। বর্তমানে পুরান ঢাকার ধূপখোলায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। বাবার রেখে যাওয়া একটি দোকানের সামান্য ভাড়ার টাকায় কোনোরকমে সংসার চলছে তাঁর।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারী ব্যবসায়ী, যিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন–এর ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যুব মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা তাঁকেও কাজ করতে দেননি বলে জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ক্ষমতার পালাবদলে ব্যবসা হারানোর গল্প

ক্ষমতার পালাবদলে ব্যবসা হারানোর গল্প

আপডেট: ১১:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক, স্টার বাংলা টুডেঃ ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা–কর্মীদের অসন্তোষের মুখে পড়লে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কতটা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন, তার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন সাহাবুদ্দিন আলী। একসময় পুরান ঢাকায় পুরোনো লোহালক্কড়ের ব্যবসা করতেন তিনি। পরে বাড়তি লাভের আশায় সেই ব্যবসা ছেড়ে মানুষের বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত হন। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথায় সেই কাজও হারাতে হয় তাঁকে।

সাহাবুদ্দিন আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সিটি করপোরেশনে প্রভাব খাটাতেন। নিজেদের গণ–অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচয় দিলেও তাঁদের বিরুদ্ধে তদবির–বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। এমন এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন–এর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ পান। ওই ওয়ার্ডের আওতায় কাপ্তানবাজার, নবাবপুরের একাংশসহ আশপাশের এলাকা রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী, কাজটি পেতে তাঁকে ১২ লাখ টাকা জামানত দিতে হয়েছিল, যা অফেরতযোগ্য। সাধারণত দরপত্র ছাড়া এমন কাজ পাওয়া কঠিন হলেও তখন রাজনৈতিক আশীর্বাদ থাকায় তিনি সহজেই অনুমতি পান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক বছরের জন্য কাজের অনুমতি পেলেও মাত্র দুই মাস কাজ চালাতে পেরেছিলেন।

চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেওয়া বক্তব্যে সাহাবুদ্দিন আলী অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা তাঁকে ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দিয়ে কাজটি কেড়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন,
“আমাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে। জোরজবরদস্তি করে বিএনপির লোকজন কাজটি নিয়ে গেছে। ছয় বছর লোহালক্কড়ের ব্যবসা করে ১২ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। এখন লাভ তো দূরের কথা, পুরো টাকাই চলে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের কাছেও বিচার দিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।”

পুরোনো ব্যবসা ছেড়ে নতুন কাজে কেন এসেছিলেন—এমন প্রশ্নে তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, “এই কাজে লস নাই, লাভ আছে।”

বর্জ্য সংগ্রহের কাজ শুরুর সময় তিনি ২৪ জন কর্মী নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং কয়েকটি ভ্যানও কিনেছিলেন। ভবিষ্যতে কর্মী ও ভ্যানের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। কিন্তু কাজ হারানোর পর আর নতুন কোনো ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেননি। বর্তমানে পুরান ঢাকার ধূপখোলায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। বাবার রেখে যাওয়া একটি দোকানের সামান্য ভাড়ার টাকায় কোনোরকমে সংসার চলছে তাঁর।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারী ব্যবসায়ী, যিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন–এর ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যুব মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা তাঁকেও কাজ করতে দেননি বলে জানা গেছে।