০৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ভেনেজুয়েলা পাঁচ হাজার মিসাইল মোতায়েন করেছে মার্কিন বাহিনীকে মোকাবিলায়

  • আপডেট: ০৬:৩৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৩

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের পাঁচ হাজার রুশ মিসাইল মোতায়েন করেছে ভেনেজুয়েলা।

সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্যারিবিয়ান সাগর উপকূলে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। এর প্রেক্ষিতেই ভেনেজুয়েলার মূল আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে রুশ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট মিসাইল মোতায়েন করা হয়েছে।

রাশিয়ায় নির্মিত ‘ইগলা-এস’ ধরনের পাঁচ হাজারটি মিসাইল স্থাপন করা হয়েছে বলে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভেনেজোলানা দে টেলেভিসিওন (ভিটিভি) তে সম্প্রচারিত এক সামরিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

বুধবার নিকোলাস মাদুরো বলেন, দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে বর্তমানে রুশ-নির্মিত ‘ইগলা-এস’ ধরনের প্রায় ৫,০০০টি মিসাইল রয়েছে, যা দেশের মূল আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্বের যেকোনও সেনাবাহিনী জানে ‘ইগলা-এস’ মিসাইলের ক্ষমতা কতটা। ভেনেজুয়েলার হাতে এর সংখ্যা পাঁচ হাজারের কম নয়।

রুশ ইগলা-এস মিসাইল হলো স্বল্প-পাল্লার নিম্ন-উচ্চতার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা মার্কিন স্ট্রেঞ্জার মিসাইলের সমতুল্য। এগুলো ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিম্ন-উড্ডয়ন বিমান লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। রুশ অস্ত্র রফতানিকারক সংস্থা রোসোবোরন এক্সপোর্টের তথ্যমতে, ‘ইগলা-এস’ মিসাইলের সর্বোচ্চ পাল্লা ৬,০০০ মিটার এবং এটি ৩,৫০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু আঘাত করতে সক্ষম।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ৪,৫০০ মেরিন ও নৌসদস্য মোতায়েন করেছে। মাদক চোরাচালান দমন ও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ক্যারিবিয়ান উপকূলে বেশ কয়েকটি নৌকা ধ্বংস করেছে, যেগুলোকে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এবং মাদুরো সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

সম্প্রতি ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি সিআইএ-কে ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন এবং স্থলভাগে অভিযান সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে ঢেলে সাজিয়েছেন মাদুরো। ‘লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবক মিলিশিয়া’ মোতায়েন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলায় এখন ৮০ লাখের বেশি রিজার্ভ সৈন্য রয়েছে। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, মোতায়েন করা মিসাইলগুলো এত হালকা যে একজন সৈনিক একাই বহন করতে পারে। দেশের শেষ পাহাড়, প্রত্যন্ত গ্রাম এবং শেষ শহর পর্যন্ত মিসাইলগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নিউজ ডেস্ক

News Desk Live24.com.bd
সর্বাধিক পঠিত

যশোরের আ,লীগের কার্যলয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ভেনেজুয়েলা পাঁচ হাজার মিসাইল মোতায়েন করেছে মার্কিন বাহিনীকে মোকাবিলায়

আপডেট: ০৬:৩৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের পাঁচ হাজার রুশ মিসাইল মোতায়েন করেছে ভেনেজুয়েলা।

সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্যারিবিয়ান সাগর উপকূলে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। এর প্রেক্ষিতেই ভেনেজুয়েলার মূল আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে রুশ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট মিসাইল মোতায়েন করা হয়েছে।

রাশিয়ায় নির্মিত ‘ইগলা-এস’ ধরনের পাঁচ হাজারটি মিসাইল স্থাপন করা হয়েছে বলে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভেনেজোলানা দে টেলেভিসিওন (ভিটিভি) তে সম্প্রচারিত এক সামরিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

বুধবার নিকোলাস মাদুরো বলেন, দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে বর্তমানে রুশ-নির্মিত ‘ইগলা-এস’ ধরনের প্রায় ৫,০০০টি মিসাইল রয়েছে, যা দেশের মূল আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্বের যেকোনও সেনাবাহিনী জানে ‘ইগলা-এস’ মিসাইলের ক্ষমতা কতটা। ভেনেজুয়েলার হাতে এর সংখ্যা পাঁচ হাজারের কম নয়।

রুশ ইগলা-এস মিসাইল হলো স্বল্প-পাল্লার নিম্ন-উচ্চতার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা মার্কিন স্ট্রেঞ্জার মিসাইলের সমতুল্য। এগুলো ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিম্ন-উড্ডয়ন বিমান লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। রুশ অস্ত্র রফতানিকারক সংস্থা রোসোবোরন এক্সপোর্টের তথ্যমতে, ‘ইগলা-এস’ মিসাইলের সর্বোচ্চ পাল্লা ৬,০০০ মিটার এবং এটি ৩,৫০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু আঘাত করতে সক্ষম।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ৪,৫০০ মেরিন ও নৌসদস্য মোতায়েন করেছে। মাদক চোরাচালান দমন ও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ক্যারিবিয়ান উপকূলে বেশ কয়েকটি নৌকা ধ্বংস করেছে, যেগুলোকে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এবং মাদুরো সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

সম্প্রতি ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি সিআইএ-কে ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন এবং স্থলভাগে অভিযান সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে ঢেলে সাজিয়েছেন মাদুরো। ‘লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবক মিলিশিয়া’ মোতায়েন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলায় এখন ৮০ লাখের বেশি রিজার্ভ সৈন্য রয়েছে। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, মোতায়েন করা মিসাইলগুলো এত হালকা যে একজন সৈনিক একাই বহন করতে পারে। দেশের শেষ পাহাড়, প্রত্যন্ত গ্রাম এবং শেষ শহর পর্যন্ত মিসাইলগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন